সংবাদ শিরোনামঃ
শ্যামনগরে আটুলিয়াতে দিনে দুপুরে বাড়িতে ডাকাতি স্বর্ণালংকার লুট কালিগঞ্জের ধলবাড়িয়ায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত লবণ পানি উত্তোলন বন্ধ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে শ্যামনগরে মানববন্ধন শ্যামনগরে মেগা প্রকল্পের টেকসই বে‌ড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, অবৈধভাবে লবণ পানি তোলার পাইপ স্থাপন বিশ্ব জীববৈচিত্র্য দিবস ২০২৬উপলক্ষে আলোচনা সভা সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত শ্যামনগর নীলডুমুর খোলপাটুয়া নদীর পাড়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ইয়ুথ প্ল্যান বাংলাদেশের পথসভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেবহাটায় গাছের চারা বিতরণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জামায়াতের মানববন্ধন কর্মসূচী পালন
সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।

সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জেলেদের নিয়ে।

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোছাঃ মাহমুদা খানম, ইউপি সদস্য মোছাঃ ফাতেমা খাতুন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম এবং সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুর রশিদ।

সভাপতির বক্তব্যে সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ইরফান আলী বলেন, “সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষ প্রয়োগের ফলে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যায়, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”

প্রধান অতিথি মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে জেলেদের বিষমুক্ত পদ্ধতিতে মাছ আহরণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।”

বিশেষ অতিথি মাহমুদা খানম বলেন, “সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে হলে বন ও নদীর পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিষ দিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আব্দুল হালিম বলেন, “গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারণার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে হবে, তাহলে সুন্দরবনে বিশদিয়ে মাছ ধরা বন্ধ হবে।

ইউপি সদস্য ফাতেমা খাতুন বলেন, “সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যক্তি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের নিরুৎসাহিত করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

খতিব ও ইমাম হাফেজ মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করা ইসলামের দৃষ্টিতেও অনুচিত। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।”

সাবেক ইউপি সদস্য জিএম আব্দুল জলিল বলেন, “বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করতে হলে নিয়মিত প্রচারণা, নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।”

সভায় উপস্থিত বক্তারা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী ও জলজ সম্পদ রক্ষা এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জেলে, বননির্ভর জনগোষ্ঠী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *